চেইন অব কমান্ড

কথা হচ্ছিল উদয়নে আমার সাথে শিক্ষকদের ভুল বুঝাবুঝি নিয়ে।।

গ্যাদা কালে আমার খুব ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার।

ইচ্ছাটা যতটা না দেশকে ভালবেসে, তার থেকে বেশী ছিল সুন্দরী একটি বউ পাবার আশায়।

আর্মি অফিসার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গেছি। মেয়ের বাবা-মা আমাদের বললেন যাও তোমরা বারান্দায় গিয়ে আলাপ করো। আমি আর মেয়ে ধীর পায়ে বারান্দায় গেলাম। আমার হাতে এক কাপ চা। আমি মেয়ের দিকে মুগ্ধ চোখে চেয়ে আছি। মেয়ের চোখ মাটির দিকে। কিন্তু আড়ালে আমার দিকে ঠিকই পিটপিট করে তাকাচ্ছে। আর্মি বলে ভয়ে কথা বলতে পারছে না! – ব্যাপারটাই অন্য রকম!

যাইহোক, সেই লক্ষ্য মাথায় রেখে আমি তাই নিজেকে তখন তৈরি করে নিচ্ছিলাম।

হাটার সময় পা ফেলি মেপে মেপে, ঘুমাবার সময় পায়ের মাঝে কোলবালিশ রাখি (যেন হাটুতে হাটু না লেগে যায়), আর সব থেকে বড় কথা – চেইন অব কমান্ড মেনে চলার চেষ্টা করি।

আমার কমান্ডার শ্রেণী শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

তাঁরা যা বলতেন আমি তাই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতাম।

এই যখন পরিস্থিতি, পড়ি ক্লাস টু-তে।

হঠাৎ একদিন ক্লাস শেষ করে টিচার্স রুমে যাবার পথে আমার বাংলা টিচার আবিস্কার করলেন আমি হাসি মুখে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।

তাঁকে না বলেই ক্লাসের বাইরে চলে এসেছি বলে তিঁনি আমাকে দেখে অত্যন্ত বিরক্ত হলেন, এবং কানে ধরে ক্লাসের ভেতর নিয়ে গেলেন। 

তাঁর সাথে আমার কথোপকথন নিম্নরুপঃ

– এই ছেলে তুমি বাইরে কখন গেছো?

– আপা, আপনি আসার সাথে সাথে আমি বাইরে চলে গেছি।

– আমি কি তোমাকে বাইরে যেতে বলেছি?

– জ্বী আপা

– জ্বী আপা মানে? কখন বলেছি?

– আপা, গত সপ্তাহে।

আমার কথা শুনে আপার মাথায় ছোট-খাটো একটা বাজ পড়ল বলে মনে হলো।

আমাকে তিঁনি রাগি রাগি গলায় জিজ্ঞেস করলেন –

– গত সপ্তাহে বের করে দিয়েছিলাম। তুমি আজকে কেন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলে?

আমি গদগদ হয়ে বলেছিলাম – আপা, আপনি আমাকে গত সপ্তাহে ভেতরে আসতে বলেননি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *